
বৈদিক যুগে আর্য সমাজে প্রশাসন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি বিশেষ দিক ছিল সভা ও সমিতি। এ দুটি প্রতিষ্ঠান জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার পরিচায়ক।
সভা:
সভা ছিল প্রবীণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি সমিতি। এটি মূলত একটি পরামর্শদাতা পরিষদ হিসেবে কাজ করত। সভার সদস্যরা সাধারণত অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং সমাজের উচ্চবর্ণের মানুষ ছিলেন। সভার প্রধান কাজ ছিল যুদ্ধ, শান্তি, এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
সমিতি:
কহসমিতি ছিল অপেক্ষাকৃত বৃহৎ এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। এটি গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। সমিতি মূলত জনগণের স্বার্থ এবং মতামত তুলে ধরার একটি মাধ্যম ছিল। এটি রাজা নির্বাচন, আইন প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করত।
বৈদিক যুগের সভা ও সমিতির উল্লেখযোগ্য দিক:
- রাজা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব দিতেন, তবে তাকে সভা ও সমিতির পরামর্শ অনুসরণ করতে হতো।
- ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
- এগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনের একটি প্রাথমিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিফলিত হয়।
সভা ও সমিতি বৈদিক সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছিল
0 Comments: